বালিয়াডাঙ্গীর মৎস্যজীবীলীগ নেতা শাকিল হত্যা মামলার ৪ আসামীকে র্যাব-১০ ঢাকায় গ্রেফতার করেছে
প্রকাশ : ১৪-০৯-২০২২ ১৫:৫১
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঠাকুরগাঁওয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের মৎস্যজীবীলীগ নেতা শাকিল হত্যার মামলার আসামীদের ছায়া তদন্ত ও গয়েন্দা নজরদারীর ভিত্তিত্বে র্যাব-১০ ঢাকা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দেলোয়ার হোসেন (৪৫) ও তার ছেলে শামীম হোসেন (২০) এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে হাবিব হোসেন (২৪) ও জসিম উদ্দীনকে (২৬) সহ একই পরিবারের ৪ আসামীকে গ্রেফতারের বিষয়টি সংস্থাটি এক প্রেস বিফ্রিং এর মাধ্যমে নিশ্চিত করেন।
ঢাকা র্যাব-১০ এর কোম্পানী কমান্ডার মোঃ সাইফুর রহমান গতকাল এক প্রেস বিফ্রিং উল্লেখ্য করে বলেন, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়ন মৎসজীবীলীগের সভাপতি শাকিল আহম্মেদ হত্যার মামলার আসামীদের ছায়া তদন্ত ও গয়েন্দা নজরদারীর ভিত্তিত্বে র্যাব-১০ এর অভিযানিক একটি দল গত শনিবার রাজধানীর বংশাল এলাকা থেকে প্রথমে হলদিবাড়ী হাট জাম্মে মসজিদের ইমাম দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হেমায়েতপুরের রিশিপাড়া থেকে হাবিব হোসেনকে ও তাদের দেওয়া তথ্য মতে নবীনগর থেকে শামীম হোসেনকে এবং তার দেওয়া তথ্য মতে জসিম উদ্দীনসহ ৪ আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার বিশ্বমপুর গ্রামের তসলিম উদ্দীনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন ও তার ছেলে শামীম হোসেন, তসলিম উদ্দীনের ছেলে জসিম উদ্দীন ও তার ভাই হাবিব হোসেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ভানোর ইউনিয়নের হলদিবাড়ী হাট জাম্মে মসজিদের ইমাম দেলোয়ার হোসেন গত ১৯ আগষ্ট শুক্রবারে জুমার নামাজের আগে খুতবায় মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কূটক্তিমূলক একটি বয়ান উচ্চারণকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ জানায় এবং নতুন ইমাম নিয়োগ করে। এই ঘটনায় গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকালে হলদিবাড়ী হাট ভূমি অফিস সংলগ্ন আওয়ামীলীগের সমর্থীত জামাতবাসী দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে শাকিলের বড় ভাই সাঈদ আলমসহ ৩ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ভানোর ইউনিয়ন মৎসজীবীলীগের সভাপতি শাকিল আহম্মেদ গুরুত্বর আহত হলে তাকে দিনাজপুর এম রহিম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিদিন সকালে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
এঘটনায় নিহতের বড় ভাই ও ভানোর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাঈদ আলম বাদী হয়ে ভানোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামসহ ২০ জনকে আসামী করে একটি মারপিটের মামলা করলে। পরবর্তীতে শাকিলের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তরিত করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামীরা পলাতক থাকায় তাদেরকে গ্রেফতারে র্যাব ও পুলিশ অভিযান পরিচালনা করতে থাকলে গত শনিবার র্যাব-১০ ঢাকা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে একই পরিবারের মামলার ৪ আসামীকে গ্রেফতার করে আসামীদের বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
অপরদিকে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা মৎসজীবীলীগের আয়োজনে ভানোর ইউনিয়ন মৎসজীবী লীগের সভাপতি শাকিল হত্যার বিচারের দাবীতে এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা শনিবার দুপুরে বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তা শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। শাকিলের বড় ভাই মামলার বাদী সাঈদ আলম বলেন, মামলার এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাবার পর র্যাব-১০ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪ আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ খায়রুল আনাম বলেন, সাকিল হত্যা মামলার আসামী পিতা- পুত্র এবং পুলিশি তদন্তে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ জন সহ একই পরিবারের মোট ৪ আসামীকে রাজধানী ঢাকার বিভিন্নস্থানে অভিযান পরিচালনা করে গত শনিবার গ্রেফতার করে থানা পুলিশের নিকট হস্থান্তর করে। ঢাকা থেকে আসামীদেরকে নিয়ে থানায় পৌছানোর পর আজ মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও চীফ জুডিশীয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারকের নিকট হাজির করা হয়। বাকী আসামীদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা ও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com