বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ঐতিহ্যেবাহী লাহিড়ী পশু হাটিতে থই থই পানির উপর গোবর আর তলে কাদা বুকে পশুর হাট বসিয়ে ক্রেতা- বিকেতাদের চরম ভোগান্তির শিকার
প্রকাশ : ০৩-০৭-২০২৩ ১৯:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
এ, কে আজাদ: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার একমাত্র ঐতিহ্যেবাহী লাহিড়ী পশু হাটিতে এখন থই থই পানির উপর গোবর আর তলে কাদা তার বুকে পশুর হাটটি বসায় ক্রেতা- বিকেতাদের চরম ভোগান্তির শিকার।
সামন্য বর্ষণে লাহিড়ী পশু হাটিতে সৃষ্টি হয়েছে চরম দুরবস্থা। বৃষ্টির জমে থাকা পানি, কাদা আর গোবরে একাকার হয়ে গেছে হাটটি। কাদার পানিতে ভিজে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন গরুর পাশাপাশি বেপারিরাও। হাটে পনি জমে থাকায় থাকায় পোহাতে হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তি। বেচাকেনা শুরু হলেও জলবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে শুক্রবার প্রচুর সংখ্যক ক্রেতা- বিক্রেতা হাটে এসেছেন। কাদা-পানিতে শরীর ভিজিয়ে আনন্দও করেছেন কোনো কোনো তরুণ ক্রেতা- বিক্রেতা।
সংশ্লিষ্টদের আশা, শুক্রবার হাটে বিক্রি বাড়েছে। আগামী সোমবার বিশেষ পশুর হাটে সবচেয়ে কম পশু বেচাকেনা হবে বলে ধারনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঠাকুরগাঁও সদরের পাহাড়ভাঙ্গা থেকে লাহিড়ী হাটে আটটি গরু নিয়ে লাহিড়ী হাটে এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ফরহাদ হোসেন। লাহিড়ী পশু হাটের হাটুজল পানির দু'পাশ ঘিরে সারিবদ্ধভাবে বিক্রির জন্য বেঁধে রাখা হয়েছে তার গরুগুলো। পশু হাটে কাদা-পানিতে জায়গা পেয়ে তিনি অসন্তুষ্ট। তবে তেমন ক্রেতা না পাওয়ায় আক্ষেপের কথাও জানান তিনি। বিকেলে তিনি বলেন, ঈদের কয়েক দিন আগে রাস্তায় যানজট বেড়ে যায়। এ সময় বিপুলসংখ্যক গরু আনা হয় বলে সুবিধামতো স্থানে গরু রাখা যায় না। তাই একটু আগেভাগেই গরু নিয়ে এসেছি, যেন পছন্দমতো জায়গা পাওয়া যায়। তিনি বলেন, বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে লাহিড়ী পশু হাটের মাঠে হাটুজল পানি ও কাদার মধ্যে গরু রাখতে ঝামেলা ও দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। তবে আগে গরু নিয়ে আসার পরও আমি ভালো জায়গা না পেয়ে ভোগান্তির শিকার।
বর্ষণে বালিয়াডাঙ্গীর লাহিড়ী পশু হাটিতে সৃষ্টি হয়েছে চরম দুরবস্থা। বৃষ্টির পানিতে হাটুজল পানি ও কাদা এবং গোবরে একাকার হয়ে গেছে পশুর হাটটি। কাদা পানিতে ভিজে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন গরুর পাশাপাশি বেপারিরাও।
পশু হাটের জয়গা না থাকায় পোহাতে হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তি।
বেচাকেনা শুরু হলেও পশু হাটটিতে হাটুজল পানি উপেক্ষা করে শুক্রবার প্রচুর সংখ্যক ক্রেতা- বিক্রেতা হাটে এসেছেন।
ঐতিহ্যবাহী লাহিড়ী পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায় এবার পর্যাপ্ত দেশীয় গরু-ছাগল রয়েছে। পশু হাটটিতে হাটুজল পানি জমে থাকার কারণে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই হাটে ক্রেতা অনেকটা কম ছিল। ক্রেতাদের অনেকেই দুপুরের পরে হাটুজল পশু বাজারে এসেছেন। আর ক্রেতা যারা এসেছেন তারা দরদাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন। মূলত তারা এখন পশু পছন্দ করার কাজটি করছেন। হয়তো তারা অন্য হাটে পশু কিনবেন।
সোলা দৌগাছি কান্তিভিটা গ্রামের পশু বিক্রেতা নাসিরুল ইসলাম বলেন, আশা করছি আজ শুক্রবার ছুটির দিনে পুরোদমে কোরবানীর পশু বিক্রি জমে উঠবে। বিশেষ হাট সোমবার রাত পর্যন্ত এই কেনাবেচা চলবে।
ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে লাহিড়ী হাটে উঠেছে প্রচুরসংখ্যক দেশীয় গরু। গরুর দাম এখন পর্যন্ত সহনীয় রয়েছে।
বিভিন্ন বেপারির সাথে কথা বলে জানা যায়, বেশি দাম পাওয়ার আশায় ব্যবসায়ী ও খামারিরা বিভিন্ন জায়গা থেকে লাহিড়ী হাটে গরু নিয়ে আসেন। অনেকেই ধারদেনা করে গ্রাম থেকে গরু কিনে এনেছেন। আবার অনেকে বাকিতে গরু কিনে এনেছেন লাহীড়ি হাটে। সবচেয়ে বেশি বেপারি এসেছেন উপজেলার কলমেঘ, কাজিবস্তী, লালাপুর, সনগাঁও, আরাজি সরলিয়া, দুওসুও, বড়বাড়ী, আমজানখোর, হরিণমারী, রত্নাই স্কুলের হাট, বাদামবাড়ী, সরকারবস্তী, ভানোর, হলদিবাড়ী, ধনতোলা, নাগেস্বরবাড়ী, চাড়োল, পাড়িয়া, রাণীসংকৈল উপজেলার নেকমরদ, যদুয়ার, ধর্মগড়, চেক পোস্ট, হরিপুর উপজেলার যাদুরানী, কামারপুকুর, পীরগঞ্জ উপজেলার লোহাগাড়া, ঠাকুরগাঁও সদরের রুহিয়া, আখান নগড়, জামালপুর, মাদারগঞ্জ, ভুল্লি, গড়েয়া থেকে।
কয়েকজন বেপারি একতাবদ্ধ হয়ে যৌথভাবে গাড়ি ভাড়া করে আসার খবরও পাওয়া গেছে। তবে দাম কম থাকার কারণে পুঁজি রক্ষা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার একমাত্র ঐতিহ্যেবাহী লাহিড়ী পশুর হাটটি সপ্তাহিক একদিন শুক্রবার করে পশুর হাট বসে।
তাছাড়া এই উপজেলায় আর কোন অস্থায়ী পশুর হাট না থাকায় ব্যাপারীরা লাহিড়ী হাটেই পশু বেচা কেনা করে থাকে।
বিভিন্ন হাট- বাজারের টেন্ডার থেকে এবার উপজেলা পরিষদের আয় হয়েছে প্রায় কোটি টাকারও বেশি। লাহীড়ি পশুর হাটের জয়গা সংকট থাকায় হাট ইজারাদার নিচু জমি ভাড়া নিয়ে পশু হাট বসায়। কয়েক দফায় সামান্য বৃষ্টির পানিতে পশু হাটের মাঠে জমে থাকে হাটুজল পানি। হাটুজল পানি ও কাদাতেই পশু বেচা-কেনা করে থাকলে এতে ক্রেতা- বিক্রেতাদের চরমভাবে দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।
লাহিড়ী পশু হাটের মাঠসংলগ্ন লাহিড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খালি মাঠ থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ তাদের মাঠে পশুর হাট বসতে দিতে নারাজ হওয়ায় হাটের ইজাদার নিরুপায় হয়ে হাটুজল পানি ও কাদায় নিরুপায় হয়ে পশুর হাট বসাতে বাধ্য হয়েছেন।
এব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নিবাহী অফিসার বিপুল কুমার জানান, লাহিড়ী পশুর হাটের জয়গা সংকট দেখা দেওয়ায় বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহদয়কে জানানো হয়েছে, বাজার উন্নয়নের বরাদ্ধ পেলে সমস্যার সমাধান হবে। এমতাবস্থায় এলাকাবাসীরা লাহীড়ি পশু হাটের জন্য জমি সংগ্রহ করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com