বালিয়াডাঙ্গীর গণ উন্নয়ন সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা বেলাল উদ্দীনের নামে দুদকে মামলার নির্দেশের কারণে বাদীকে হুমকির প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন
প্রকাশ : ২২-০৯-২০২১ ১৮:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে গণ উন্নয়ন সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা বেলাল উদ্দীনের নামে দুদকে মামলার নির্দেশের কারণে বাদীকে হুমকি, কোর্টে মামলা দায়ের, কোর্ট দুদককে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় বাদীকে মামলা তুলে নেওয়াসহ হত্যার হুমকির প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগি পরিবার।
আজ বালিয়াডাঙ্গী প্রেসক্লাবে সকাল সাড়ে ১১টার সময় এ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মামলার বাদী বেলাল উদ্দীন।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমি বালিয়াডাঙ্গী গণ উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড-এ ৮ বছর চাকরী করেছি। চাকুরি নেওয়ার কিছুদিন পরে গণ উন্নয়ন সমবায় সমিতির লিমিটেড-এর সভাপতি বেলাল উদ্দীন আমাকে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন প্রদান করবে মর্মে সোনালী ব্যাংক, বালিয়াডাঙ্গী শাখায় একটি হিসাব খুলে দেয়। সেই সংগে ব্যাংকের টাকা উত্তোলনের জন্য ১০পাতা স্বাক্ষরিত একটি চেক বই সে জমা রাখে। কিছুদিন পরে টিএমএসএস নামক একটি বে-সরকারী সংস্থায় ঋণ গ্রহনের সময় আমি চেকের ২ দুটি পাতা চাইলে আমাকে ২টি চেকের পাতা দেয়।বাকী চেকের স্বাক্ষরিত ৮টি পাতা তার কাছে জমা রাখে। সেই সংগে সমিতির চাকরীর জামানত বাবদ বেলাল উদ্দীন ৪ লক্ষ টাকা জমা রাখেন।
পরে আমি চাকরি ছেড়ে দিয়ে জামানতের টাকা ফেরৎ চাইলে ঘটে যতো বিপত্তি। আমি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষনার পরে তার গণ উন্নয়ন সমবায় সমিতির হিসাব নিকাশ চুড়ান্ত হয়। এ সময় তার কাছে চাকরি নেওয়াকালীন জামানতের টাকা সমন্বয় করার পর আমি চেকের পাতাগুলো ফেরৎ চাইলে খুঁজে দেখে ফেরৎ দিবে দিবে অনেক দিন অতিবাহিত করে। এক পর্যায়ে আমি চাপ সৃষ্টি করলে আমার কাছে একটি উকিল নোটিশ প্রদান করে। আমি তার কাছে নোটিশের ব্যপারে জানতে চাইলে সে আবারও আমার কাছে সময় নেয়। কিছুদিন পরে জানতে পারি আমার নামে কোর্টে ১১লক্ষ টাকার মামলা হয়েছে।চেকের মামলায় আদালত আমাকে জামিন দেয়।জামিনের কিছু দিন পরে আবারও উকিল নোটিশ, আবারও ৩০ লক্ষ টাকার মামলা।
তার নিয়োজিত সমিতির কর্মচারী দিয়ে আবারও উকিল নোটিশ আবারো ২ লক্ষ টাকার চেকের মামলা। আমার স্বাক্ষরতি তার কাছে থাকা ৮টি চেকের পাতা দিয়ে একের পর এক মামলা দিয়েই যাচ্ছে। গণ উন্নয়ন সমবায় সমিতির বেলাল উদ্দীনের কাছে এখনো আমার নাম স্বাক্ষরিত কিছু চেকের পাতা রয়েছে। সে আমার উপর তার সমিতির লোকজন দিয়ে আরো মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমনটি আচ করতে পারছি।
চেকের ভূয়া মামলার বিষয়টি নিয়ে পূর্বে বালিয়াডাঙ্গী থানায় ও দূনীর্তি দমন কমিশন (দুদক) দিনাজপুরে অভিযোগ করি।সে অভিযোগে কোন প্রকার ফলাফল হয় নি। বাধ্য হয়ে আমি ঠাকুরগাও সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা দায়ের করি। আমি বাদী হয়ে মামলা করলে কোর্ট মামলাটি দুদক দিনাজপুরকে তদন্তের নির্দেশ দেন।সেই সংগে আদালত "দুদক আঞ্চলিক কার্যালয় দিনাজপুর এর তদন্ত কার্যক্রম অগ্রসর না হওয়া যৌক্তিক ছিল না" মর্মে মন্তব্য করেন। সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত ঠাকুরগাওয়ের জজ মামুনুর রশিদ। এমতাবস্তায় বাদীপক্ষের দাখিলী অভিযোগটি তদন্তের নিমিত্ত গৃহিত হলো বলে আদেশ প্রদান করেন। সেই সংগে কোর্ট আরো আদেশ প্রদান করেন যে, অভিযোগ সংক্রান্তে তদন্ত অনুষ্ঠানক্রমে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দূনীতি দমন কমিশন, সমন্বিত কার্যালয়, দিনাজপুরকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, গণ উন্নয়নের বেলালউদ্দীন বালিয়াডাঙ্গীর দাদন ব্যবসায়ী। সে চড়া সুদে মানুষের কাছে টাকা দেয়।টাকা দেওয়ার সময় সুকৌশলে স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক ও নন জুডিয়াল ষ্ট্যাম্প নিয়ে টাকা দেয়। কিছু দিন পরে সুযোগ বুঝে সুদের মোটা অংকের টাকা দাবি করে।দাবীকৃত টাকা দিলে ছাড় পায়, না দিলে বড় অংকে চেকের মামলা মাথায় নিয়ে ঘুরতে হয়।এ রকম সে শতাধীক মানুষের উপর মামলা করেছে। অনেকেরই বাড়ী ঘর লিখে নিয়েছে।আবার অনেকেই তার মামলা ভয়ে বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
ইতোমধ্যে সুদের টাকা দিতে না পারায় ঈশিতা হোটেলের মালিককে বাড়ী ছাড়া করেছে। তার সুদের টাকার ভয়ে ওয়াপদা মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ সাইফুল্লাহ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।অসংখ্য মানুষের বাড়ী জামানতের কথা বলে সুদের টাকা নেওয়ার সময় ফাঁকা চেক ও বাড়ীর দলীল জমা করতে বাধ্য করে।পরে বাড়ী দখলে নিচ্ছে।
ইতোমধ্যে ইন্জিনিয়ার জাকিরের বালিয়াডাঙ্গীস্থ বাড়ীটি সুদের টাকা দিতে না পারায় দখলে নিয়েছে।
সে সমিতির কথা বলে অসহায় মানুষের উপর চেকের মামলা করলেও সেটি নিতান্তই তার ব্যক্তিগত টাকা।কোটি কোটি টাকা মানুষের সন্ঞ্চয় জমা নিয়ে ব্যাংকিং লেন দেন করছে। যা যে কোন মুহুত্বে ইভ্যালী ও ই অরেঞ্জ এর মতো ঘটনা ঘটিয়ে দেওলিয়া ঘোষনা করতে পারে।
মানুষকে বেশী টাকা লভ্যাংশের লোভ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আমানত গ্রহন করেছে।যা ব্যাংকি লেনদেনকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে এবং বালাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা পরিপন্থি।
তিনি আরো বলেন, আমার উপর দাদন ব্যবসায়ী বেলাল ৩টি মামলায় ৪৩ লক্ষ টাকার মামলা করেছেন।'কারো কারো উপর ১কোটি টাকারও উপরে চেকের মামলা করেছে।আমার নামে দফায় দফায় চেকের মিথ্যা মামলা করায় আমি প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করি।
আমার এ মামলাটি কোর্ট গ্রহনের পর আমাকে ও আমার পরিবারকে বাড়ীতে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসছে বেলালসহ তার লোকজন।মামলাটি প্রত্যাহার করবার জন্য বেলাল উদ্দীন ও তার পরিবারের লোকজনসহ তার চামচারা আমার বাড়ীর গেটে লাথি মেরে অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ করে। মামলা না তুললে আমাকে মেরে লাশ গুম করে দিবে বলে হুমকি দিয়ে আসেন।
আমি আমার পরিবার ভয়ের মধ্যে দিনাতিপাত করছি।আমি দাদন ব্যবসায়ী বেলালউদ্দীনের ভয়ে নিজের বাড়ী ছেড়ে শ্বশুর বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছি সেখানেও আমাকে ও আমার শ্বশুরবাড়ীর লোকজনকে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকগণ লেখালেখি না করলে বেলাল যেভাবে একের পর এক মিথ্যা মামলা শুরু করেছে তাতে আমার ও আমার পরিবারের আত্মহত্যা কর ছাড়া আর কোন পথ থাকবে না। এখনো তার কাছে আমার দুটি চেক রয়েছে আমি সব সময় আতংকে আছি যে কোন মুহুত্বে আমার উপর আবারও মিথ্যা মামলা দায়ের করতে পারে।
সর্বশেষে তিনি বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রীর সুদৃষ্ঠি কামনা করে বলেন, আমিসহ আমার পরিবারকে বাঁচান। না হলে সুদখোর বেলালের অত্যাচারে গোটা পরিবার নিয়ে আত্মহত্যা করতে হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বেলাল সহ তার স্ত্রী, অবুঝ দুটি শিশু সন্তান,স্যালকসহ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
গণ উন্নয়ন সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা বেলাল উদ্দীন জানান, আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এটি জানার পর আদালতে যোগাযোগ করেছি এখনো নকল পাইনি। আর তাকে হুমকির প্রশ্নই আসে না। আমি গত ঈদের সময় তাঁর বাড়ীতে গেছিলাম এর পর আর যাই নি। আমি ১১লক্ষ টাকার মামলা করেছি।সমিতি তার কাছে ২৭ লক্ষ টাকা পাবে তাই তার নামে ৩০ লক্ষ টাকার মামলা দেওয়া হয়েছে।আরো একটি মামলার ব্যপারে বেলাল বলেন হামিদুরসহ অামার তিনজন কর্মী মিলে ১ লক্ষ ৬০ টাকা তার কাছে টাকা পাবে তাই ২ লক্ষ টাকার মামলা হয়েছে।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com