বালিয়াডাঙ্গীতে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
প্রকাশ : ০৮-১১-২০২৪ ১৮:১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
এ, কে আজাদ: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার
(৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে।
সারা দেশের ন্যায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপি দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রাকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।
বিকাল ৩ টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাডভোকেট সৈয়দ আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন-ঠাকুরগাঁও -২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি জুলফিকার মূতুর্জা চৌধুরী তুলা।
আলোচনার শুরুতেই কোরআন থেকে তালাওয়াত পাঠ করেন উপজেলা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাসান আলী।
উপজেলা জাসাস'র সভাপতি হারুন অর রশিদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যানোদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি ডাক্তার তোফাজ্জল হোসেন তোফায়েল, আইয়ুব আলী খাঁন, সাধারন সম্পাদক ডক্টর টিএম মাহাবুবর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক এ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক মকবুল হোসেন, চাড়োল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিঞা মো : হাবিবুল্লাহ বাবু, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জুলফিকার আলী সাহা, ছাত্র নেতা ইলিয়াস আলী, যুব নেতা আব্দুল কাদের প্রমুখ।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঠাকুরগাঁও -২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ঢাকা কলেজের সাবেক ভিপি জুলফিকার মূতুর্জা চৌধুরী তুলা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমে বলীয়ান হয়ে সিপাহী-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের অঙ্গীকার নিয়ে। তাই ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লব অত্যন্ত তাৎপর্যম-িত। ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। এই বিপ্লবে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উন্মেষ ঘটিয়ে জাতিকে উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির মহাসড়কে উঠিয়েছিলেন। আর সেজন্যই জাতীয় জীবনে এই বিপ্লবের গুরুত্ব অপরিসীম।
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দলের যৌথসভা করে ৩১ অক্টোবর ১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মসূচি ঘোষণাকালে ৭ নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঘোষণা এবং ওই দিন সরকারি ছুটি পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের জন্য ৭ নভেম্বর গুরুত্বপূর্ণ দিন। বর্তমান প্রজন্মকে এ দিনের ইতিহাস থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। তাই ব্যাপকভাবে এই দিনের ইতিহাস ও গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে বিএনপি ১০ দিনের কর্মসূচি হাতে নেয়।
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাভোকেট সৈয়দ আলম বলেন, ৭ নভেম্বর জাতীয জীবনের এক ঐতিহাসিক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমে বলীয়ান হয়ে সিপাহী-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল জাতীয় স্বাধীনতা সুরক্ষা ও হারানো গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের অভূতপূর্ব অঙ্গীকার নিয়ে। তাই ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লব অত্যন্ত তাৎপর্যমণ্ডিত। স্বাধীনতাত্তোর রাষ্ট্রীয় অনাচার, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, তৎকালীন ক্ষমতাসীন মহল নিজ স্বার্থে জাতীয় স্বাধীনতাকে বিপন্ন ও সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে আধিপত্যবাদের থাবার মধ্যে দেশকে ঠেলে দেয়। শুধুমাত্র নিজেদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্যই গণতন্ত্রবিনাশী কর্মকান্ড শুরু করে। সেইজন্য মানুষের বাক-ব্যক্তি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে গলাটিপে হত্যার মাধ্যমে একদলীয় বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়। শুরু হয় নির্মম একদলীয় দুঃশাসন। দেশে নেমে আসে অশান্তি ও হতাশার কালো ছায়া। বাকশালী সরকার চরম অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী পন্থায় মানুষের ন্যায়সংগত অধিকারগুলোকে হরণ করে। দেশমাতৃকার এই চরম সংকটকালে ৭৫-এর ৩ নভেম্বর কুচক্রীরা মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করে।
এই অরাজক পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বর স্বজাতির স্বাধীনতা রক্ষায় অকুতোভয় সৈনিক এবং জনতার ঢলে রাজপথে এক অনন্য সংহতির সম্মিলন ঘটে এবং জিয়াউর রহমান মুক্ত হন। এই পটপরিবর্তনে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রভাবমুক্ত হয়ে শক্তিশালী সত্তা লাভ করে। গণতন্ত্র অর্গলমুক্ত হয়ে অগ্রগতির পথে এগিয়ে যায়, এই দিন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে। শক্তির এদেশীয় অনুচররা উদ্দেশ্য সাধনের পথে কাঁটা মনে করে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নির্মমভাবে হত্যা করে। জিয়া শাহাদাত বরণ করলেও তার আদর্শে বলীয়ান মানুষ দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় এখনো ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।
উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ডক্টর টিএম মাহাবুবর রহমান বলেন, আবারও বিদেশি শক্তির দোসর আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা প্রায় ১৬ বছর রাষ্ট্রক্ষমতাকে জোর করে আঁকড়ে ছিল। এদের নতজানু নীতির কারণেই দেশের সার্বভৌমত্ব দিনের পর দিন দুর্বল হয়ে পড়েছিল। গোপন চুক্তি সম্পাদন করে আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রভুত্ব কায়েমের বেপরোয়া কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছিল। তারা গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াকু নেতাকর্মীদের বিভৎস নির্মমতায় দমন করেছে।
আয়নাঘরসহ গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যার এক ভয়াল দুঃশাসন কায়েম করে বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোকে নির্দয় শাসনের যাঁতাকলে পৈশাচিকভাবে পিষ্ট করেছে। আর নির্যাতনের এই অব্যাহত ধারায় গণতন্ত্রের প্রতীক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বহু বছর মুক্তি দেওয়া হয়নি। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার মহিমান্বিত আত্মদানের মধ্য দিয়ে তারা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। মানুষের মধ্যে গণতন্ত্রের মুক্তির পথ প্রসারিত হয়েছে।
এখন চূড়ান্ত গণতন্ত্রের চর্চার জন্য অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনসহ গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আওয়ামী লীগের নতজানু নীতির কারণেই আমাদের আবহমানকালের কৃষ্টি, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর চলেছিল বাধাহীন আগ্রাসন। তাই আমি মনে করি ৭ নভেম্বরের চেতনায় সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রের পথচলাকে অবারিত এবং জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি ডাক্তার তোফাজ্জল হোসেন তোফায়েল বলেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত মোকাবিলায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সকল মুক্তিকামী জনতা রাজপথে নেমেছিলেন। আমাদের দেশপ্রেমিক সিপাহী ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে ৭ নভেম্বর ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত প্রতিহত করে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে হেফাজত করেছিলেন।
আমাদের দেশপ্রেমিক সামরিক বাহিনী বারবার দেশকে বিদেশি আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেছে।
৫ আগস্ট দেশের ছাত্র-জনতা অনেক তাজা প্রাণ ও রক্তের বিনিময় দেশকে সাড়ে ১৫ বছরের আওয়ামী লীগের কবল থেকে মুক্ত করেছে এবং দেশের সামরিক বাহিনী ছাত্র-জনতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এমন এক সময় ৭ নভেম্বর পালন করছি, যখন জাতি নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জাতিকে আবার ফ্যাসিবাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নানামুখী চক্রান্ত শুরু হয়েছে। তারা ফিরে এলে জাতি এক মহাসংকটে পড়বে। এ অবস্থায় জাতিকে রক্ষা করার জন্য দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দল-মত-নির্বিশেষে এবং বর্তমান সরকার ও সামরিক বাহিনীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
আলোচনা সভা শেষে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব এ্যাডভোকেট সৈয়দ আলমের নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে বালিয়াডাঙ্গীর প্রধান সড়ক পদক্ষিণ করে একই জায়গায় গিয়ে বর্ণাঢ্য র্যালিটি শেষ করে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের চিত্রাঅঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণের ঘোষনা করা হয়।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com