বালিয়াডাঙ্গীতে নামাজরত অবস্থায় চাচাকে ছুড়িকাঘাতের ঘটনায় ভাতিজা আটক
প্রকাশ : ০৫-০২-২০২৪ ১০:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক
এ, কে আজাদ: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ভাতিজার ধারালো অস্ত্রের আঘাতের নামাজরত অবস্থায় চাচা আলিম উদ্দীন বীনাকে (৫১) ছুড়িকাঘাতের ঘটনায় পুলিশ ইউনুস আলী (২২) নামের ঘাতক ভাতিজাকে আটক করেছে।
এলাকাবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের ঠনঠনিয়া পাড়া গ্রামের মরহুম দবির উদ্দীনের ছেলে আলিম উদ্দীন অরফে বীনা রবিবার (৪ ফ্রেরুয়ারী) ভোরবেলা ঠনঠনিয়া পাড়া গ্রামের জাম্মে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করাকালিন সালাম ফেরানোর সময় তার আপন ভাতিজা ও সাহাবুদ্দিনের ছেলে
ইউনুস আলী পিছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে উপুযোপরি কোপ মারতে থাকে। সালাম ফিরিয়ে ভাতিজাকে আটকানোর আগেই আলিম উদ্দীন বীনার এক হাতের কবজি শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং তার মাথার অর্ধেক অংশ কেটে যায়। এসময় মুসল্লীগণ ঘাতক ইউনুস আলীকে আটক করে রেখে থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে পুলি ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক ইউনুস আলীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে
মসজিদে জামাতে নামাজ আদারকারী মুসল্লীদের সহায়তায় তার পরিবারের লোকজন আলিম উদ্দীন বাণাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেছে। রবিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত জ্ঞান ফিরেনি চাচা আলিম উদ্দীন বাণার।
এ ঘটনায় ওই মসজিদের জামাতের মুসল্লিগণ ও এলাকাবাসী ঘাতক ভাতিজা ইউনুস আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
দুই বছর ধরে অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় বসে থাকা ঘাতক ইউনুস আলীর বাবা সাহাবুদ্দিন জানান, গত শনিবার সকালে ইউনুস আলী তার স্ত্রীর কাছে টাকা চাইলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এতে বাধা দিলে আমাকে লাথি মারে ও আমার স্ত্রীকে মারধর করে। এনিয়ে শালিস বৈঠকে বসলে চাচা আলিম উদ্দীন ভাতিজাকে ধমক দিয়ে বেধে রাখতে বলেন। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে যায় ভাতিজা ইউনুস আলী।
শনিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোমড়ে চুল কাটা কাঁচি নিয়ে বেশ কয়েকবার মসজিদে ও চাচার বাড়ীতে খুঁজতে যায় ইউনুস আলী। পরে না পেয়ে রাত পর্যন্ত বাড়ীতে গালিগালাজ করে। আত্মীয় হওয়ার সুবাদে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আকালু মোহাম্মদ ডংগা রাতে এসে সালিশের মাধ্যমে সাবধান করে যায়। আমরা মনে করেছিলাম শান্ত হয়ে যাবে`।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ফজরের নামাজ দু`রাকাত ফরজ নামাজের শেষ সালাম ফিরাচ্ছিলেন ইমাম। পিছন থেকে এসে চাচার মাথায় কোপ মারে ইউনুস,পরের বার আবার কোপ মারলে হাত দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করছিলেন চাচা আলিম উদ্দীন। পরের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হাতের কবজি কেটে পড়ে যায়।
মুসল্লিগণ তার পরিবারকে খবর দিলে স্বজনরা উদ্ধার করে প্রথমে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল এবং সবশেষ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসা চলছে। তবে বিকাল পর্যন্ত জ্ঞান ফিরেনি।
স্থানীয় স্কুল হাট বাজারে একটি হোটেলে কাজ করতো ইউনুস আলী। হোটেল মালিক জানায়, মাঝে মাঝেই কাজ করার অবস্থায় হাত পা অবস হয়ে পড়ে যেতো তার। মাথায় সমস্যাও ছিলো। তবে পরিবারের লোকজন বলছে, আয় রোজগার না থাকায় বাবার সাথে জমি ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে প্রায়শই ঝগড়া লেগে থাকতো ইউনুসের। এর আগেও বেশ কয়েকবার বৃদ্ধ বাবা-মাকে মারধর করেছে ইউনুস।
বালিয়াডাঙ্গী থানার (ওসি) ফিরোজ কবির জানান, ঘটনার পর এলাকাবাসী ঘাতক ভাতিজাকে আটক করে থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে জানান তিনি।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com