weather ৩৪.৬৬ o সে. আদ্রতা ৫৩% , শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালিয়াডাঙ্গীতে দূর্বিত্তদের হামলায় আহত ভ্যানচালকে আর্থিক সহায়তার আহব্বান

প্রকাশ : ৩০-০৫-২০২৩ ২১:১২

নিজস্ব প্রতিবেদক
এ, কে আজাদ: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় দুই দফায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে অসহায় ভ্যানচালক তোফজ্জল (৪০) ও মা হারানো তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন বিছানায় কেঁদে কেঁদে সময় পার করে আসছে।
গত রোববার বিকাল ৪টায় এঘটনায় ভ্যানচালক তোফাজ্জল তার ব্যবহীত মুঠো ফোন দিয়ে পর পর তিনবার ৯৯৯ ফোন করে জানার পরও বালিয়াডাঙ্গী থানার দায়িত্ব প্রাপ্ত ডিউটি অফিসার এসআই আনোয়ার হোসেন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এলাকাবাসীদের মাঝে ব্যাপক প্রশ্ন জেগে উঠে।
এর আগে গত শনিবার সকাল ১১টায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর জঙ্গলবাড়ী গ্রামে একই হামলার ঘটনাটি ঘটে।
আহত ভ্যানচালক তোফজ্জল উপজেলার লালাপুর জঙ্গলবাড়ী গ্রামের মরহুন বরমত আলীর ছেলে।
জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লালাপুর জঙ্গলবাড়ী গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে আরিফ (২৫) ও তার ভাই আল আমিন (২২) মিলে গত শনিবার (২৮ মে) সকাল ১১ টায় প্রতিবেশী মরহুম বরমত আলীর ছেলে ভ্যান চালক তোফাজ্জলে বাড়ীতে এসে তাকে মারপিট করে পালিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। তিনি কিছুটা সুস্থ হলে পরদিন রবিবার (২৯ মে) বিকাল ৪টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নিজ বাড়ীতে গেলে তাকে দেখামাত্রই একই গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে আরিফ  ও তার ছোট ভাই আল আমিন এবং একই গ্রামের সেলিমের ছেলে সবুজ (২৮), নরিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৫), নুনুর ছেলে রাজ্জাক (৪৫) মিলে হাতে বাঁশের লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার বাড়ীতে অনাধিকার প্রবেশ করে আগের দিনে হাসপাতালে ভর্তি  হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করাকে কেন্দ্র করে আবারো তোফাজ্জলকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাবার সময় তাকে গুম ও হত্যার হুমকি দেয়। মারপিটের ফলে সে মুমূর্ষু অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকে। প্রতিবেশীরা তার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে সন্ত্রাসীরা তাদের বাঁধা প্রদানসহ নানা রকম ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। কোন উপায় খুঁজে না পেয়ে ভ্যানচালক তোফাজ্জল তার ব্যবহীত মুঠো ফোন দিয়ে সে পর পর তিনবার ৯৯৯ ফোন করে ঘটনাটি জানানোর পরও বালিয়াডাঙ্গী থানার দায়িত্ব প্রাপ্ত ডিউটি অফিসার এসআই আনোয়ার হোসেন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
এসময় মা হারানো তার এতিম তিন শিশু সন্তানের আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা তার বাড়ীতে ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তোফাজ্জলকে তার ব্যবহৃত  ভ্যানরিক্সায় তুলে দিলে, তার ৯ বছরের শিশু পুত্র কবীর ও তার সাত বছর বয়সের ছোট বোন রুপালী,  ৫ বছরের বয়সের সাব্বির মিলে তারা নিজেরাই ভ্যানরিক্সা ঠেলে গুরুতর আহত বাবা তোফাজ্জলকে ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এনে ভর্তি করে। এলাকাবাসী, পথচারীদের ও হাসপাতালের ষ্টাফদের নজরে পড়ে তিন শিশু ভ্যান রিক্সা ঠেলে অসুস্থ্য বাবাকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে নিয়ে আসার এমন দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে তাদের নিকট ঘটনা শোনে ভেঙ্গে পড়েন।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিঠুন দেবনাথ জানান, ভ্যানচালক তোফাজ্জলের বুকে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন। আশঙ্কামুক্ত হলেও সেরে উঠতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে।
এব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিউটি অফিসার এস আই আনোয়ার হোসেন জানান, ৯৯৯ ফোন পেয়ে স্থানীয় গ্রাম পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। কিছুক্ষণ পরে শোনতে পায়েছি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত তোফাজ্জল বলেন, আমি একজন অসহায় ভ্যান রিক্সা চালক হওয়ার সুবাদে দুই দিনের ব্যবধানে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আমাকে দুই দফায় সন্ত্রাসী হামলায় মারপিট করে গুরুতর আহত করে।
মা হারানো তিন সন্তানকে নিয়ে আগে কোন রকমে সংসার চালিয়ে আসতাম, কিন্তু এখন সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি আমি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছি । বর্তমানে আর্থিক সংকট থাকায় আমার চিকিৎসার ব্যায় বহণ করতে ও সন্তানদের খাবার যোগার করতে না পেয়ে অনেক কষ্টে সময় পার করছি।
তিনি আরো বলেন, আমার স্ত্রী কুলসুম বেগম (৩০) দুই বছর আগে মরণ ব্যাধী ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হলে ওই সময় সহায় সম্বল যা ছিলো সব কিছু বিক্রি করে স্ত্রীর চিকিৎসা করিয়ে নিঃশেষ হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। স্ত্রী কুলসুম বেগমের রেখে যাওয়া এতিম তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে ভ্যানরিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। এরই মাঝে দুইদিনের ব্যবধানে পৃথকভাবে দুই দফায় আমার উপর সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে তিনদিন ধরে হাসপাতালে মৃত্যু সাথে পাঞ্জা লড়ছি। এজন্য সকলের নিকট আর্থিকভাবে সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
বর্তমানে আর্থিকভাবে নিঃশেষ ভ্যান চালক তোফাজ্জলের পক্ষে তার নিজের চিকিৎসা ও তিন শিশু সন্তানের খাবারের ব্যায় বহণ করা সম্ভব না হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিছানায় শুয়ে থেকে ঢুকরে ঢুকরে কেঁদে সময় পার করছে। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৯ নাম্বার বিছানায় অসুস্থ তোফজ্জলের সাথে তার তিন শিশু সন্তান অনাহারে অধ্যারে দিন জাপন করছে।এমতাবস্থায় ভ্যানচালক তোফাজ্জল তার চিকিৎসা ও সন্তানদের খাবারের জন্য দেশ বিদেশের দানশীল ও বিত্তবানদের নিকট আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন কামনা করেন। সাহায্য পাঠাতে তার নগদ একাউন্ট ও যোগাযোগ মুঠোফোন নাম্বার ০১৮৩৯৭৫৫৯৯৪।
এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খায়রুল আনাম জানান, এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি তবে অভিযোগ পেলে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@thakurgaon71.com