বালিয়াডাঙ্গীতে গৃহবধূকে ধর্ষনের অভিযোগে ধর্ষক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের
প্রকাশ : ১৪-০৫-২০২৩ ২২:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবাদক :ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সৌলা দোগাছি কান্তভিটা গ্রামে এক গৃহবধু (৪০) কে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধর্ষন ও মারপিটের অভিযোগে ধর্ষক মজিবুর রহমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী গৃহবধু বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সৌলা দোগাছি কান্তিভিটা গ্রামের মরহুম উলফত আলীর ছেলে মজিবর রহমান (৪৭) প্রতিবেশী এক দিন মুজুরের স্ত্রী (৪০) কে সে প্রায় সময় অবৈধ ভালোবাসার সম্পর্ক গড়িয়ে তুলার কু- প্রস্তাব দিয়ে আসতো। এতে ওই গৃহবধু তার প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বিষয়টি সে তার স্বামীসহ পরিবারের লোকজনকে জানিয়ে দেয়। তার স্বামী মজিবর রহমানকে এধরনের অশ্লিল ভাষায় কথা না বলার জন্য অনুরোধ করিলে এতে সে চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। গৃহবধুর পরিবারের লোকজনের অনুপস্থিতির সুযোগে মজিবর রহমান গত ১৪ এপ্রিল শুক্রবার রাত ৮টায় ওই গৃহবধুর শয়ন ঘরে প্রবেশ করে দরজার খিল বন্ধ করে তার গায়ের ওড়না ছিনিয়ে নিয়ে তার মুখ বেঁধে ফেলে এসময় সে চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলে সে তার গলায় ও বুকে ডেগার ঠেকিয়ে হত্যার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে গৃহবধুর ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় গৃহবধু মুখের কাপড় সড়িয়ে বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকলে তার স্বামী ঘটনাস্থলে এসে ধর্ষক মজিবর রহমানকে উলঙ্গ অবস্থায় আটক করে। ঘটনাটি জানা জানি হলে মজিবর রহমানের ছেলে সাজু হোসেন (২৫) ও জালাল উদ্দীন (২২) সহ আরো অপরিচিত ব্যাক্তি হাতে লাঠি, লোহার রড ও ধারালো ছোরাসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে গৃহবধুকে লাঠি দিয়ে মারপিটসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফুলা জখম করে লম্পট ধর্ষক মজিবর রহমানকে ঘটনাস্থ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে ওই আহত গৃহবধুকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসে ভর্তি করে।
এঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধু বাদী হয়ে ধর্ষক মজিবর রহমান ও তার দুই ছেলে সাজু ও জালাল উদ্দীনসহ আরো অপরিচিত ৪/৫ জনকে আসামী করে স্থানীয় থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানা পুলিশ গৃহবধুর অভিযোগটি গ্রহণ না করে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। গৃহবধু বাদী হয়ে গত ২ মে ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নিযাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতে মামলা দয়ের করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুনানী শেষে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মামলা হিসেবে গ্রহণ করার পর বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে মামলা হিসেবে রুজু করার আদেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে গত ১৩ মে বালিয়াডাঙ্গী থানায় মামলা হিসাবে রুজু হয়। আজ ১৪ মে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসকের নিকট ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষা করা হয়।
ভূক্তভোগী গৃহবধু বলেন, মামলার আসামীরা আমাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রাণ নাশের হুমকী অব্যাহত রেখেছে। বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও আসামীদের গ্রেফতার না হওয়ায় আমাদের পরিবারের লোকজন আতংকের মধ্যে দিন জাপন করছি।
এ ব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খায়রুল আনাম বলেন, এ ঘটনায় আদালত হতে একটি অভিযোগ পেয়ে থানায় মামলা হিসেবে রুজু করা হয় এবং তদন্ত চলছে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com