বালিয়াডাঙ্গীতে গৃহবধু ধর্ষণ মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ গ্রেপ্তার করছেনা
প্রকাশ : ২৩-০৫-২০২৩ ২১:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
এ কে আজাদ:ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের সৌলা দোগাছি গ্রামের এক গৃহবধুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের হলে মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছেনা।
ঘটনার মাসখানেক পেরিয়ে গেলেও কোন আসামী এখনো গ্রেফতার হয়নি। গত ১৪ এপ্রিল রাতে উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের সৌলা দোগাছি কান্তিভিটা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
মামলার বাদী ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন শুক্রবার রাতে ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে একই গ্রামের মরহুম উলফত আলীর ছেলে মজিবর রহমান (৪৫) তার শয়ন ঘরে ঢুকে গৃহবধুর ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থে এসে তাকে উলঙ্গ অবস্থায় আটক করে। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্তের দুই ছেলে সাজু হোসেন ও জালাল উদ্দীনসহ অজ্ঞত ৫/৬ জন অস্ত্র নিয়ে গৃহবধুর বাড়ীতে এসে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় তারা গৃহবধুকে পিটিয়ে ও অস্ত্র দিয়ে আহত করে। তাকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়। এঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে গত ২ মে ঠাকুরগাঁও বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। আদালতের মামলার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে মামলা হিসেবে রুজু করার আদেশ দেন। সেই প্রেক্ষিতে গত ১৩ মে বালিয়াডাঙ্গী থানায় মামলা হিসেবে রুজু করে। যাহার মামলা নং-১৬।
মামলায় মূল হোতা মজিবর রহমান ছাড়াও হামলাকারী তার দুই ছেলে সাজু ও জালাল উদ্দীনসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামী করা হয়। মামলার এক মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ তাদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ভুক্তভোগী গৃহবধূ অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল বাসার আসামীদের গ্রেফতারে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছেনা। ফোন দিয়ে তথ্য দেয়ার পরও আসামীদের গ্রেফতারে অনীহা প্রকাশ করেন তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আবুল বাশার।
ভুক্তভোগী গৃহবধুর অভিযোগ, আসামীরা প্রতিদিন বিকেলে হাট বাজারে ঘুরা ফিরা করে অথচ পুলিশ তাদের পায়না।
মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এস আই আবুল বাসার দাবি করেন, পুলিশ আসামীদের খুঁজে পাচ্ছেনা। তিনি বাদী পক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থল একটু দুর এলাকা, এজন্য অভিযান পরিচালনা করা যায় না। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলেই থানায় মামলা হয়েছে, এর জন্য মূল আসামী মজিবরকে ধরতে চাই। বাদীকে বলেছি মজিবরের সন্ধান পেলে তারা যেন আমাকে তথ্য দেয়। বাকী আসামীদের ধরবেন না কেন জানতে চাইলে এস আই আবুল বাসার বলেন, তাদেরও পাওয়া যাচ্ছে না।
অপরদিকে ভূক্তভোগী গৃহবধু বলেন, মামলার আসামীরা আমাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রাণ নাশের হুমকী অব্যাহত রেখেছে। একমাস অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারণে এযাবত আসামীদের গ্রেফতার না হওয়ায় আমাদের পরিবারের লোকজন আতংকের মধ্যে দিন জাপন করছি।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com