weather ৩৪.৫৭ o সে. আদ্রতা ৫৩% , শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোখাদ্যের বাড়তি দাম,গমের চারা কেটে বিক্রি

প্রকাশ : ০৪-০৩-২০২২ ১৭:৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, জেলায় প্রতিবছর কমে যাচ্ছে গম চাষের পরিমাণ। খেত থেকে চারা কেটে বিক্রি করা হলে গমের উৎপাদনও কমে যাবে। ঠাকুরগাঁওয়ে গবাদিপশুর খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে। এ সুযোগে অনেক কৃষক খেত থেকে গমের চারা কেটে পশুখাদ্য হিসেবে তা বাজারে বিক্রি করছেন। কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, এবার জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। এখন খেত থেকে বাড়ন্ত গমের চারা কেটে বিক্রি করা হলে গমের উৎপাদন আরও কমে যাবে। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ও নেকমরদ এলাকায় গত বুধবার দেখা যায়, গমখেত এখন গমের শিষ বের হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু কৃষক কাস্তের টানে টানে কেটে চলেছেন মুঠি মুঠি বাড়ন্ত গমের গোছা। নেকমরদ এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, হালচাষ, বীজ রোপণ থেকে এ পর্যন্ত প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় আট হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ১০ মণ গম পাওয়া যাবে। সেই গম বিক্রি করে ১০–১১ হাজার টাকা হাতে আসতে পারে। কিন্তু এখন বাজারে গবাদিপশুর খাবারের সংকট রয়েছে। এ সময় এই চারা পশুখাদ্য হিসেবে বিক্রি করে প্রতি বিঘা জমি থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১৭–১৮ হাজার টাকা। তাই তাঁর মতো অনেক গমচাষি এখন খেতের গম গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে বিক্রি করে দিচ্ছেন। গমচাষিরা বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে গম চাষে হালচাষ, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ খরচ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ আট হাজার টাকার মতো খরচ হয়। কাঁচা গম বিক্রিতে লাভ হচ্ছে ছয়–সাত হাজার টাকা। গতকাল বালিয়াডাঙ্গী বাজারে নছিমনবোঝাই কাঁচা গমগাছ বিক্রি করতে আসেন কুশলডাঙ্গী গ্রামের নওশাদ আলী। তিনি বলেন, রানীশংকৈল উপজেলার কুমোড়গঞ্জ এলাকার এক গমচাষির দুই বিঘা জমির গম তিনি কিনে নিয়েছেন। দুই বিঘা জমিতে কমপক্ষে তিন হাজার আঁটি গমগাছ পাওয়া যাবে। বাজারে এখন প্রতি আঁটি গমগাছ বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা। ৩০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। কাঁচা গমের আঁটি কিনতে এসেছিলেন গোয়ালগাড়ি গ্রামের রাইসূল আলম। তিনি বলেন, বাড়িতে তিনি ছয়টি ছাগল পালন করেন। আগে এলাকায় সেগুলো নিজেরা চড়ে খেত। এখন সব খেতেই ফসল থাকায় ছাগলগুলো চড়ে খেতে পারে না। তাই গমগাছ কিনতে এসেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে জেলায় গমের আবাদ হয় ৪৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে ৪৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, কিন্তু চাষ হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯২ হেক্টরে। অধিদপ্তরের ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু হোসেন বলেন, জেলায় প্রতিবছর কমে যাচ্ছে গমের চাষ। এ মৌসুমে এমনিতেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। তার ওপর চারা কেটে বিক্রি করা হলে গমের উৎপাদন আরও কমে যাবে।

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@thakurgaon71.com

বাংলাদেশ বিভাগের অন্যান্য খবর