weather ৩৩.২৪ o সে. আদ্রতা ৫৮% , শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের নব নির্মিত মিলনায়তনে নিম্নমানের ইট-খোয়া ও বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে

প্রকাশ : ১২-০৬-২০২৩ ১৮:৪৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
এ, কে আজাদ : ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের নব নির্মিত ভবন ও মিলনায়তন, উপজেলা পরিষদের পুকুর পাড়ের রিটানিং ওয়াল এবং রাস্তা তেরী কাজে নিম্নমানের ইট-খোয়া-বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। মিলনায়তনে ও রাস্তায় এমন নিম্নমানের কাজে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ যেন দেখার কেউ নেই।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯- ২০২০ অর্থবছরে এলজিইডির অধিনে ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৫ হাজার ১শ' ৭৯ টাকা ৫৯ পয়সা বরাদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের ভবন ও মিলনায়তন, উপজেলা পরিষদের পুকুর পাড়ের রিটানিং ওয়াল এবং রাস্তা তেরী কাজ শুরু হয়। এরই মাঝে উপজেলা পরিষদের ভবন ও উপজেলা পরিষদের পুকুর পাড়ের রিটানিং ওয়ালের কাজ শেষ করে এবং মিলনায়তন ভবনের কাজ প্রায় শেষের দিকে মেঝে ঢালাই ও রাস্তার কাজ চলতে থাকলে এসব কাজে নিম্নমানের ইট-খোয়া-বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে উপজেলা পরিষদের নবনির্বিত মিলনায়তন ভবনের জন্য বরাদ্ধ হয় ১ কোটি ১১ লাখ টাকা।
উপজেলা পরিষদ মাঠে রাস্তার কাজে বরাদ্ধ হয় ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭ শ' ৯৭ টাকা। 
উপজেলা পরিষদের পুকুর পাড়ের রিটানিং ওয়াল বরাদ্ধ হয় ৫৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা। বাকী টাকা বরাদ্ধ হয় উপজেলা পরিষদ ভবনের জন্য।
বর্তমানে মিলনায়তন ভবনের কাজ প্রায় শেষের দিকে মেঝে ঢালাই ও রাস্তার কাজ চলতে থাকে। এসব কাজে নিম্নমানের ইট-খোয়া-বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। মীম ডেভলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং নামে নাটোরের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজটির বরাদ্ধ পায়। কিন্তু সেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কাজটি না করে অন্য এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর মাধ্যমে কাজ করছে।
সোমবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে ও উপজেলা নিবাহী অফিসার বিপুল কুমার এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল এর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিলনায়তন ভবনের মেঝে ঢালাই কাজে ও রাস্তার বিভিন্ন অংশে নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে।
এদিকে রাস্তায় দায়সাড়াভাবে ডেসিং করে রাস্তার দু-পাশ্বে নিম্ন মানের ইট ও বালু ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। বিটুমিনের পরিমাণ ও ব্যবহৃত পাথরের গ্রেডেশন নিয়েও আপত্তি করেছেন এলাকাবাসী।
বড়বাড়ী গ্রামের সাহা আলম নামে এক ব্যক্তি জানান, ইঞ্জিনিয়ার অফিসের লোকের সামনে দায়সারা গোছের কাজ করলেও অজ্ঞাত কারণে তারা দেখেও না দেখার ভান করছেন। গোয়ালকারী গ্রামের বাবুল বলেন, শুরু থেকেই স্থানীয় লোকজন কাজের মান নিয়ে আপত্তি করছেন; কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন এলাকার লোকজনকে হুমকি দেন। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী তথা ইট, খোয়া ও পাথর ব্যবহার এবং কোনো রকমভাবে কার্পেটিং, সঠিক পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহার না করার কারণে মিলনায়তন ভবন ও রাস্তা নির্মাণ হওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাবে।দায়িত্বে থাকা উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী মমতাজুর রহমান বলেন, আমার যোগদানের পর দেখি এই কাজ প্রায় শেষের দিকে, কিছু নিম্নমানের ইটের খোয়া রয়েছে এতে স্থানীয় লোকজনসহ ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যান জানালে আমি ঠিকাদারকে এসব নিম্নমানের ইটের খোয়া অপসারণ করতে বলেছি।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বলেন, আমি আসলে কাজটি করছি না। কাজটি করে আমার বন্ধু। তাই কেমন উপকরণ দিচ্ছে বলতে পারছি না। আমি খোঁজ নিচ্ছি।
এলজিইডির বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রকৌশলী মাসুদার রহমান বলেন, এ মিলনায়তন ও রাস্তার কাজের মান নিয়ে অনেকেই আমাকে অভিযোগ জানিয়েছে। পরে আমি লোক পাঠিয়ে কাজের মান ঠিক করে দিয়েছিলাম। এখন হয়তো সাইটের মিস্ত্রি ও ঠিকাদারের লোক ওপরে নিম্নমানের খোয়া দিতে পারে। আমি কাজটি দেখার জন্য আবারও লোক পাঠাচ্ছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নিবাহী অফিসার বিপুল কুমার বলেন, এই কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার জন্য এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@thakurgaon71.com