প্রতিবাদে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ নিজের ঘরে আগুন দিয়ে অন্যকে ফাঁসানোর চেষ্টা!
প্রকাশ : ১৮-১০-২০২৪ ২০:৫৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
এ, কে আজাদ: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে নিজের ঘরে আগুন দিয়ে প্রতিবেশীকে মিথ্যা মামলার অভিযোগ দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিথ্যা মামলার অভিযোগ দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে এলাকাবাসী আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চাড়োল খোঁচাবাড়ী সড়কে উপজেলার চাড়োল মহৎপাড়া গ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন তলিম উদ্দীন, হারুন অর রশিদ, সারোয়ার হোসেন, হুমায়ূন কবীর, নুরুল ইসলাম, রজব আলী ও লুকমান আলী প্রমুখ।
তারা জানান, তসলিম উদ্দীন একজন ভদ্র কৃষক মানুষ। তার ছেলে হারুন অর রশিদ একজন কৃষক।
তারা প্রতিপক্ষের দ্বারা শুধু হয়রানির শিকার হয়ে যাচ্ছেন। তাই এলাকাবাসী অন্যায়ের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলা চাড়োল মহৎপাড়া গ্রামের তসলিম উদ্দীন সংসারিক প্রায়োজনে তার বসতভিটার সীমানায় রোপনকৃত একটি মেগনি গাছ একই এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী নিশিকান্তের নিকট ৭হাজার ৫ শ' টাকায় বিক্র করে। কাঠ ব্যবসায়ী নিশিকান্ত সিংহের নিযুক্ত শ্রমিক দ্বারা গত ১৬ অক্টোবর বুধবার দুপুর ১২ টায় তসলিম উদ্দীনের ছেলে হারুন অর রশিদের উপস্থিতিতে বিক্রয়কৃত মেহগনি গাছটি কাটতে চাইলে এসময় একই গ্রামের পবারত আলীর ছেলে তমিজুল হক (৪২), মরহুম কুথা মোহাম্মদের ছেলে পবারত আলী (৬২), সমির উদ্দীন (৫৮) ও কাবুল হোসেন (৫৫), সমির উদ্দীনের ছেলে মহসিন আলী (৩৫) ও সাহাজতদ্দীন (৪০), কাবুল হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৫) মিলে দলবদ্ধ হয়ে তার নিকট এসে গাছ কাটতে বাঁধা নিষেধ করে অশ্লিল ভাষায় গালিমন্দসহ অশোভন আচরণ পূর্বক তাকে সশস্ত্র অবস্থায় বাধা দেয়। এসময় হারুন অর রশিদ তাদের অন্যায় কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে তার ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনাস্থল হতে সকলে মিলে সাহাজতদ্দীনের বাড়ীতে ফিরে এসে তার একটি গোয়াল ঘর ও রান্না ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এতে তার দুটি ঘর পুড়ে যায়।
আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে একই গ্রামের সাবদুল হকের ছেলে নুরুল ইসলাম, আকু মোহাম্মদের ছেলে রজব আলী ও ফিরিজুল হকের ছেলে লুকমান আলীসহ তার বাড়ীতে আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা করতে গেলে এসময় সাহাজতদ্দীন মিথ্যাভাবে তসলিম উদ্দীন ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ায়। বিষয়টি জানার পর তসলিম উদ্দীন ও তার লোকজন এলাকার গণ্যমান্য লোকজনের নিকট জানালে তারা সকলেই সাহাজতদ্দীন ও তার লোকজনের অসামাজিক কর্মকান্ডের কারণে তসলিম উদ্দীনেকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। এঘটনায় তসলিম উদ্দীন বাদী হয়ে গত বুধবার সন্ধ্যায় তমিজুল হকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে বালিয়াডাঙ্গী থানায় নিখিত অভিযোগ করে। অপরদিকে তমিজুল হক বাদী হয়ে তসলিম উদ্দীন ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে অপর একটি মিথ্যা অভিযোগ করায় এলাকার জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন জেগে উঠেছে।
তসলিম উদ্দীন (৬৫) বলেন, "বাজান এ বয়সে অনেক দেখিছি। তবে এমন জালিমের যুগ দেখি নাই। নিজের দখলীয় বসত ভিটার সীমানায় রোপনকৃত মেহগনি গাছে বিক্রি করতে গিয়ে তারা বাধা দিয়ে ব্যার্থ হয়ে তারা নিজেরাই নিজের ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে উল্টো আমাদের ঘায়েল করতে নিরিহ লোকদেরকে মিথ্যা মামলার অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে। এ দেশে কী আইন-কানুন নাই।"
প্রতিপক্ষ সাহাজতদ্দীনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে গেলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
হুমায়ুন কবীর বলেন, "যে ঘর দুটিতে আগুন লেগেছে গোয়ালঘর ও রান্না ঘর ছিল। আগুন লাগার হৈচৈ শুনে আমি দৌড়ে যাই আগুন নেভাতে। তবে কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে আমি বলতে পারবো না।"
এলাকার সমাজসেবক ও মাদ্রাসা শিক্ষক সারোয়ার হোসেন বলেন, "তসলিম উদ্দীনের সঙ্গে তমিজুল হকের বসতভিটার জায়গা-সম্পতি নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ ছিল। তারা কয়েকটি সালিশ করেছে সব কয়টি সালিশে রায় তসলিম উদ্দিন পক্ষে হয়েছে। কিন্তু তমিজুল হক সেই সালিশ বিচার না মেনে নিয়ে সে তার লোকজনকে নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে। তার লোকজন সাহাজতদৃদীনের দুটি ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাদেরকে জড়ানো নিয়ে আমরা এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানিয়েছি।"
মামলা তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই মাসুদ বলেন, "আগুনে পোড়া ঘটনাটির তদন্ত করার জন্য আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। অভিযোগে যাদেরকে সাক্ষী করা হয়েছে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে বাদী বলেছেন তারা জনসমক্ষে সাক্ষী দিতে রাজি নন। তিনি সাক্ষীদেরকে আমার অফিসে নিয়ে আসবেন।" তিনি বলেন, "আপনারা সাংবাদিক, আপনাদের কলমে সত্য উদঘাটন হলে আমাদের রিপোর্ট প্রদান করতে সহজ হবে।"
ছবি: সংগৃহিত
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@thakurgaon71.com